Daily jaijaidin Newspaper Review
Summary ratings: 3 stars
(xx voters)
Visits
:
86
words:
900
Published: March 09, 2008
Inteview
তপু
স্বপ্নচূড়া ব্যান্ড মিক্সডে নূপুর গানটি গেয়ে সঙ্গীতাঙ্গনে স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন তপু। একই অ্যালবামের সিকুয়ালে একটা গোপন কথা তাকে আরো প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে শ্রোতাদের সামনে। এরপর জন্মেছি তাই এবং চেতনার ধারাবাহিকতায় জি-সিরিজের ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম একক অ্যালবাম বন্ধু ভাবো কি? সম্প্রতি যায়যায়দিনের চে কাফে এসেছিলেন তপু
বন্ধু ভাবো কি? ... কার প্রতি এ আবেগঘন জিজ্ঞাসা?
কোনো এক বন্ধুর প্রতি। যখন যে শ্রোতা গানটি শুনছে তার কল্পনায় আকা কোনো এক বন্ধুর প্রতিচ্ছবির প্রতি। হতে পারে সহপাঠী, হতে পারে প্রতিবেশী, হতে পারে পরিচিত কারো প্রতি ... মেয়ে তুমি এখনো আমায় বন্ধু ভাবো কি/কখনো কি আমায় ভেবেছিলে বন্ধুর চেয়ে একটুখানি বেশি?
পাঠকদের কি একটুখানি বেশি করে বলা যায় না বন্ধু ভাবো কি’র নেপথ্য কাহিনী?
তাহলে আরো একটু নেপথ্যে যেতে হচ্ছে। স্বপ্নচূড়া-১, স্বপ্নচূড়া-২, স্বপ্নচূড়া-৩ এবং আন্ডারগ্রাউন্ড-২ অ্যালবামে একটি করে মোট চারটি গান গেয়েছি। তার মধ্যে নূপুর এবং একটা গোপন কথা গান দুটি শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ায় বন্ধু-বান্ধব আর শুভাকাক্সক্ষীদের উৎসাহ বেড়ে গিয়েছে। সবাই চাইছে এবার আমার একক অ্যালবাম। শুরু করলাম কাজ। এটাই ছিল একক অ্যালবামের জন্য করা প্রথম গান। গানটি লিখে, সুর করে ফুয়াদকে দিলাম মিউজিক করার জন্য। গানটি ফাইনালি যেদিন শেষ হলো সেদিন আরো ভালো করে বুঝলাম একটা গানের জন্য প্রপারলি মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। ফুয়াদ গানটার এমন সুন্দর মিউজিক করেছেন যে নিজের গানকে নিজেই চিনতে পারছিলাম না। সত্যি বলতে কি, গানটাতে আমার কোনো ক্রেডিট নেই, অল ক্রেডিট গোজ টু ফুয়াদ।
সব গানেরই মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছেন ফুয়াদ। ফুয়াদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ কোথা থেকে?
ফুয়াদ একজন অসাধারণ মিউজিশিয়ান। অনেক শিল্পীরই প্রিয় কম্পোজার তিনি। আমার কাছে একজন প্রিয় মানুষও। সুমন, ফুয়াদ এ রকম আরো কিছু প্রিয় মানুষ আছে, যারা আমার ফ্যামিলি মেম্বারের মতো এবং আমি যাদের খুবই স্নেহভাজন। আমাদের সবার মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা, মিউজিক ভাবনা প্রায় একই রকম। আমি আর সুমন ভাই একই বাসায় থাকি, ফুয়াদ ভাইয়ের বাসাও আমাদের কাছেই। ফলে প্রতি দিনই দেখা হয়, আড্ডা হয় এবং সেই সঙ্গে বসে গান হয়। স্বাভাবিকভাবেই ফুয়াদকে আশা করেছি আমার অ্যালবামের মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টের জন্য এবং ফুয়াদও আমাকে আশাহত করেননি।
কি ধরনের মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছেন ফুয়াদ?
ফুয়াদ সাধারণত যে ধরনের মিউজিক করেন, এ অ্যালবামেও সে ধরনের মিউজিকই করেছেন। বেশির ভাগ গানেই তিনি ইলেকট্রিক সাউন্ড ইউজ করলেও আমার গানগুলো তিনি ম্যানুয়াল্লি করেছেন। যেমন কিছু কিছু গানে ভায়োলিন বাজিয়েছেন সেলিম। গিটার বাজিয়েছেন ফয়সাল ও মাসুম। বাশি বাজিয়েছেন জালাল। এসরাজ বাজিয়েছেন অসিত। এর পেছনে অবশ্য আমার ইচ্ছারও কিছুটা প্রাধান্য ছিল। আমি ফুয়াদকে বলেছিলাম কিছু অ্যাকোস্টিক ইন্সট্রুমেন্ট থাকলে ভালো হয়। তিনি আমার ইচ্ছাটার মূল্য দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বলতে পারি, ফুয়াদ খুবই পরিচ্ছন্ন মিউজিক করেছেন।
গানগুলো লিখেছেন এবং সুর করেছেন আপনি? কথা ও সুরের ভাবনা কেমন ছিল?
কথার দিক থেকে ভাবনাটা ছিল শ্রোতারা যেন কথাগুলো বুঝতে পারে। তাই সহজ-সরল আর সাবলীল ভাষায় লিখেছি গানগুলো। তবে চেষ্টা করেছি উপস্থাপনাটা যেন ভিন্ন রকম হয়। আর সুরের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট স্টাইলকে ফলো করিনি। যখন মাথায় যে রকম সুর এসেছে, সেটাকেই ঘষা-মাজা করে কিছু একটা করার চেষ্টা করেছি। ছোটবেলায় ছড়া লিখতাম। লেখালেখির অভ্যাসটা সেখান থেকেই। সুরের ব্যাপারটা ন্যাচারাল। তবে গান শুনতাম প্রচুর, গুনগুন করে গাইতাম ভালোলাগা সুরগুলো।
অ্যালবামের দুটি গানে আপনার সহশিল্পী ছিলেন আনিলা ও তৃণা। তাদের সম্পর্কে কিছু বলুন?
আনিলা ফুয়াদের ছোটবেলার বন্ধু। আমার বড় বোনের মতো। খুবই ভালো গান করেন তিনি। তার গায়কী স্টাইল এবং টোনাল কোয়ালিটি অত্যন্ত রিচ। আমি নিজেও তার একজন ভক্ত। আমার নূপুর গানটিতে তিনি সহশিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি করার পর মনে হল, এ গানটি সলো না হয়ে ডুয়েট হলে বেশি ভালো লাগবে। এ গানটির খুবই ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। তৃণা নর্থ সাউথ সাংস্কৃতিক সংঘের সদস্য। বর্তমানে সে খুবই ভালো পারফর্ম করছে। নর্থ সাউথে পড়াকালে তার সঙ্গে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। আমরা আমার বিশ্বাস একদিন সে বড় মাপের শিল্পী হবে। ইচ্ছার ঘুড়ি গানটাতে সে আমার সঙ্গে পারফর্ম করেছে। এ গানটিরও ভালো রেসপন্স পাচ্ছি।
এবার বলুন আপনার ব্যান্ডের খবর কি? ব্যান্ডের নাম কি ইয়াত্রী না যাত্রী? এ নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত।
বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমার ব্যান্ডের নাম আসলে যাত্রী। ইংরেজি বর্ণমালা ওয়াই দিয়ে লেখাতে অনেকেই ইয়াত্রী পড়ছেন এবং বলছেন। কেউ কেউ হয়তো জানে না, ওয়াই এর উচ্চারণ কখনো কখনো য হয়। যাহোক, এ রকম বিভ্রান্তির জন্য আমরা দুঃখিত। আশা করি, এখন সবার বিভ্রান্তি কেটে যাবে এবং সবাই আমাদের ব্যান্ডকে যাত্রী নামেই চিনবে। আর ব্যান্ডের বর্তমান কার্যক্রম চলছে স্টেইজ শোকে ঘিরে। প্রায়ই কোথাও না কোথাও আমাদের শো থাকছে। এছাড়াও আমরা একটু একটু করে ব্যান্ডের পরবর্তী অ্যালবামের কাজ করছি। আগামী বছরের ভালোবাসা দিবসে যাত্রীর নতুন অ্যালবাম পাবে শ্রোতারা।
More reviews about the Daily jaijaidin